সমালোচনার মুখে প্লটের আবেদন প্রত্যাহার রুমিন ফারহানার

ব্যাপক সমালোচনার মুখে প্লটের আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মহিলা সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। গতকাল মঙ্গলবার গৃহায়নমন্ত্রী বরাবর এক চিঠিতে তিনি এই আবেদন প্রত্যাহার করেন। চিঠিতে তিনি বলেন, ‘আমার দল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দল (বিএনপি)-এর প্রাণ তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুভূতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়ে গত ৩ আগস্ট, ২০১৯ তারিখ সংসদের দাপ্তরিক ফরম্যাটে করা আমার পূর্বাচলের প্লটের আবেদনটি আমি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।’

রুমিন ফারহানার প্লটের আবেদন নিয়ে বিএনপি বিব্রত ছিল। মাঠপর্যায়েও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রুমিন ফারহানার এই সিদ্ধান্ত।

গত ৩ আগস্ট গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি প্লট চেয়ে আবেদন করেছিলেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বরাবর পাঠানো ঐ আবেদনে রুমিন লিখেছিলেন, ‘ঢাকাস্থ পূর্বাচল আবাসিক এলাকায় ১০ কাঠা প্লটের প্রয়োজন। ঢাকা শহরে আমার কোনো জায়গা/ফ্ল্যাট, জমি নাই। ওকালতি ছাড়া আমার অন্য আর কোনো ব্যবসা/পেশা নাই। আমার নামে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দের জন্য সুব্যবস্থা করে দিতে আপনার মর্জি হয়।’ রুমিন ফারহানা বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। বিএনপির মনোনয়নে এবারই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন তিনি। রুমিন গত ৯ জুন শপথ নেন।

প্লট চেয়ে আবেদনের বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এটা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সুবিধা। এটা কোনো সরকারের কাছে চাওয়া না। রাষ্ট্রের কাছে চেয়েছি। রাষ্ট্রীয় পদের কারণে বেশ কিছু অধিকার হয়, যেমন—গাড়ি, প্লট। সরকার হয়তো দেবে না। তবু আনুষ্ঠানিকতার জন্য আবেদন করেছি।’ তিনি বলেন, মন্ত্রী-এমপি না হয়েও কেউ কেউ শুল্কমুক্ত গাড়ি পেয়ে গেছেন। আর আমি আবেদন করার পরই চিঠি ভাইরাল হয়েছে। এটা বিরোধী রাজনীতিকে হেয় করার জন্য করা হয়েছে। এটা কোনো অবৈধ কাজ নয় জানিয়ে সংসদে বাকি যারা প্লট চেয়ে আবেদন করেছেন, তাদের নামও প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

প্লট বিতর্কে রুমিনের পাশে দাঁড়ালেন মির্জা ফখরুল

দলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের অনেকেই প্রকাশ্যে এবং ফেসবুকে রুমিনের সমালোচনা করলেও মির্জা ফখরুল বলেন, ছোটো-খাটো বিষয় নিয়ে পাগলের মতো ঐ ফেইসবুকে সমালোচনার কোনো যুক্তি নেই। কেউ একটা ছোটো ভুল করে ফেলল তোমার তো তাকে এখনই কবর দিয়ে দিতে হবে। নিশ্চয়ই না। দেখতে হবে সে এখন কি কাজ করছে? সে গণতন্ত্রের জন্য কাজ করছে, দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য কাজ করছে—এটা হচ্ছে মূল কথা।

ফখরুল বলেন, আমাদের চিন্তাভাবনার লোক যারা আছেন তাদেরকে অনুরোধ করব—দয়া করে আপনারা ফেইসবুকে তার বিরুদ্ধে বা অন্য কারো বিরুদ্ধে এবং আমাদের লোক কারো বিরুদ্ধে কোনো কমেন্ট করবেন না, লিখবেন না। এটা ক্ষতি হবে আন্দোলনের।

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক স্মরণ সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

 

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুকে আমরা

পুরানো সংবাদ
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১