ছাত্ররাই জাতির স্বপ্নসারথি, তাদের হাত ধরেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে : ডা. শফিকুর রহমান

বগুড়া নিউজ ২৪: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ছাত্ররাই জাতির স্বপ্নসারথি। ছাত্র সংসদের প্রতি জাতির অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। তাদের হাত ধরেই এই জাতির ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বহু বছর ধরে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ ছিল অপ্রাসঙ্গিক। শুধু ছাত্র সংসদ নয়, দেশের পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাই অচল ছিল।

আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘দুর্বার নেতৃত্বে গড়ি স্বপ্নের ক্যাম্পাস’ প্রতিপাদ্যে দেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ডাকসু, জাকসু, চাকসু, রাকসুর মতো আগামী বাংলাদেশও তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ আমাদের সবার কাম্য। তরুণরা কেমন বাংলাদেশ গড়বে, তার প্রমাণ দিচ্ছে এই ছাত্র সংসদগুলো।’

নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকে নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক এক্সেলেন্স, গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও সততার পরীক্ষায় শতভাগ উত্তীর্ণ হওয়ার চেষ্টা করবে। গতানুগতিক কালচারের বাইরে এসে ভবিষ্যতের বৃহৎ নেতৃত্বের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। তোমাদের নেতৃত্বে যেমন জগদ্দল পাথর সরিয়ে দিয়েছ, তেমনি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজে সহযোগিতা করবে।’

সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ছাত্রসংসদ নির্বাচন ছিল ছাত্রসমাজের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত। এটি ছিল জুলাই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। ইসলামী ছাত্রশিবির বরাবরই ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিয়ে সোচ্চার থেকেছে ও আন্দোলন করেছে।

তিনি বলেন, ছাত্রসংসদ শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চ হবে না, বরং আগামী দিনে দেশের গতিপথ ও নীতিনির্ধারণ করবে। প্রতিনিধিরা কোনো ব্যক্তি বা দলের প্রতিনিধি নয়, বরং সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে সবার জন্য কাজ করবে। সকল ক্যাম্পাসে ছাত্রবান্ধব কর্মসূচি থাকতে হবে। প্রত্যেক প্রতিনিধিকে সবার নেতা হয়ে উঠতে হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও সাবেক চাকসু ভিপি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার।

ছাত্রসংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জাকসুর এজিএস আয়শা সিদ্দিকা মেঘলা, এবং রাকসুর নির্বাহী সদস্য সুজন চন্দ্র।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছাত্রসংসদ নির্বাচন আদায়ে ছাত্রশিবির ও শিক্ষার্থীদের ভূমিকা শীর্ষক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ফুল, ক্রেস্ট ও বই তুলে দেওয়া হয়।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুকে আমরা

পুরানো সংবাদ
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১